Looking For Anything Specific?

Responsive Advertisement

শ্রীলংকায় লংকা কান্ড

                                             চীনের ফাঁদে 



শ্রীলংকার উন্নয়ন-দর্শনে ‘ঋণ করে হলেও ঘি খাও' নীতি প্রতিফলিত হয়েছে। আর এ ঋণ দিতে এগিয়ে এসেছে চীন। হাম্বানটোটা আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্রবন্দরের কথাই প্রথম আসবে। শ্রীলংকার সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্টের বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে সমালোচকদের ‘এ প্রকল্প বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়’ মতামত উপেক্ষা করে এ প্রকল্প গ্রহণ করেন। যখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে শ্রীলংকা এক ঘরে, তখন ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সফরে যান চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। তার সফরকালেই প্রচুর ঋণ এবং বিনিয়োগের সূচনা হয়। ২০০৭-২০১৪ সালের মধ্যে চীন হাম্বানটোটা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পটির জন্য পাঁচ কিস্তিতে ১.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেয়। প্রথম দিকে ঋণের সুদহার ১-২ শতাংশ ধরা হলেও পরে তা বেড়ে ৬.৩ শতাংশে দাঁড়ায় এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত করা হয়। ২০১০ সালে প্রকল্প চালু হলেও সেখানে জাহাজ না ভিড়িয়ে, শিপিং কোম্পানিগুলো পার্শ্ববর্তী কলম্বো বন্দর ব্যবহার করে। এ অবস্থায় ২০১৭ সালে চীনা কোম্পানিকে ১.১২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৯৯ বছরের জন্য বন্দরের ৮৫ শতাংশ মালিকানা দেওয়া হয়। শ্রীলংকা বন্দর কর্তৃপক্ষ চীনা কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে বন্দর পরিচালনা করতে থাকে। চীন কলম্বো বন্দর নগরী প্রকল্পে ১.৪ বিলিয়ন বিনিয়োগ করে। এসব প্রকল্পের ফলে চীনের কাছে শ্রীলংকার দায় ২০২০ সালে ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়, যদিও এসব প্রকল্প থেকে আয় বাবদ ঋণ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। চীন শ্রীলংকাকে বৈদেশিক বাণিজ্য ভারসাম্য সহায়তা ও ১.৪ বিলিয়ন ডলারের কারেন্সি সোয়াপ সুবিধা দেয় এবং চায়না উন্নয়ন ব্যাংক ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণসুবিধা ও চীনে অবস্থিত এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (AIIB) ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেয়। এভাবে শ্রীলংকা চীনের ঋণ-ফাঁদ নীতির শৃঙ্খলে আষ্টেপৃষ্ঠে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, চীনা ঋণ ছাড়াও শ্রীলংকা আন্তর্জাতিক বন্ডের মাধ্যমে ও অন্যান্য লগ্নিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে। বর্তমানে শ্রীলংকার মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৫,১০০ কোটি মার্কিন ডলার।


                                                     


Post a Comment

1 Comments