DNA ও RNA এর মধ্যে পার্থক্য
এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি DNA ও RNA-র বিষয়ে একটি পুর্ণাঙ্গ ধারনা লাভ করবেন ।
প্রথমেই আমরা DNA ও RNA এর মধ্যে পার্থক্য একনজরে দেখে নেই-
| DNA | RNA |
|---|---|
| ১. এটা ৫ কার্বন বিশিষ্ট শর্করা ডি অক্সিরাইবোস সুগার নিয়ে গঠিত। |
১. এটা ৫ কার্বন বিশিষ্ট শর্করা রাইবোজ সুগার নিয়ে গঠিত। |
| ২. এতে অক্সিজেন অনু কম থাকে । | ২. এতে অক্সিজেন অণু বেশি থাকে । |
| ৩. এটা ৪ প্রকারের নাইুট্রোজেন বেস নিয়ে গঠিত যথা অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন । |
৩. এটা ৪ প্রকারের নাইট্রোজেন বেস নিয়ে গঠিত , যথা -অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল । |
| ৪. পলিডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিওটাইড এর দুইটি দণ্ড পরস্পরকে পেচাইয়া দ্বিতন্ত্রী কাঠামো গঠন করে। |
৪. পলিরাইবোনিউক্লিওটাইড, এর একটি মাত্র দণ্ড হিসাবে অবস্থান করে নির্দিষ্ট আকুতিবাহী একতন্ত্রী কাঠামো গঠন কলে। |
| ৫. ক্রোমোজোমে অধিক পরিমাণে পাওয়া যায়। | ৫. এটা সাইটোপ্লাজমে অধিক পাওয়া যায় । |
| ৬. সকল কোষেই DNA বংশগতির ধারক ও বাহক । | ৬. মাত্র কিছু সংখ্যক ভাইরাস ( DNA বিহীন) এটি বংশগতি নিয়ন্ত্রক, অন্যান্য কোষে এটা প্রোটিন সংশ্লেষণ করে । |
| ৭. এটা নিজ প্রতিলিপি উৎপন্ন করতে পারে । | ৭. এটার উৎপাদন DNA-র উপর নির্ভরশীল। |
| ৮. DNA- Dioxi-Ribo Nuclides Acid | ৮. RNA- Ribo-Nuclic Acid |
DNA এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা
DNA কে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ভাগ করা হয়েছে
যথা ১. প্রতি ঘূর্ণনে জোড় সংখ্যার উপর ভিত্তি করে
২. কয়েলিং বা প্যাঁচানোর ধরনের উপর ভিত্তি করে
৩. অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ৪. গঠনের উপর ভিত্তি করে
৫. সূত্রকের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে
ক. হেলিক্সের গতিপথ, বেস পেয়ারের অবস্থা এবং নমুনায় আর্দ্রতার উপর ভিত্তিকরে ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
B-DNA: এটি সচরাচর রূপ এবং এ ধরনের ওয়াটসন এবং ক্রিক প্রস্তাব করেছেন। নমুনাতে যখন অধিক লবণ ঘনত্ব এবং ৯২% আর্দ্রতা থাকে তখন এক্সরে ফিলে এ ধরনের দেখতে পাওয়া যায়। এটি একটি ডানমুখী দ্বি-সূত্রক অণু এবং এতে প্রতি ঘূর্ণনে ৯.৩ টি বেস জোড় থাকে।
A-DNA : নমুনাতে যখন ৬৬% এর নিচে অর্দ্রতা থাকে তখন এক্সরে ফিল্মে এ ধরনের DNA দেখতে পাওয়া যায়। এটি একটি ভানমূখী দ্বি-সূত্রক অণু এবং এতে প্রতি ঘূর্ণনে ১০টি বেস জোড় থাকে।
C-DNA: নমুনাতে যখন ৭৫% আর্দ্রতা থাকে তখন এক্সরে ফিল্মে এ ধরনের DNA দেখতে পাওয়া যায়। এটি একটি ডানমূখী দ্বি-সূত্রক অণু এবং এতে প্রতি ঘূর্ণনে ৮টি বেস জোড় থাকে। D-DNA এ ধরনের খুব বিরল। নমুনাতে যখন ৭৫% আর্দ্রতা থাকে তখন এক্সরে ফিল্মে এ ধরনের DNA দেখতে পাওয়া যায়। এটি একটি ডানমূখী দ্বি-সূত্রক অণু এবং এতে প্রতি ঘূর্ণনে ১০টি বেস জোড় থাকে।
খ. সূত্রকের কয়েলিং বা প্যাঁচানোর ধরনের উপর ভিত্তি করে DNA দুই ধরনের যথা-
(1) ডানমূখী এবং
(ii) বামমূখী
(I) ডানমুখী : অধিকাংশ ডিএনএ অণুই ডানমূখী অর্থাৎ এক্ষেত্রে ডানদিক থেকে ঘূর্ণন শুরু হয়। এ ধরনের প্যাঁচানোকে ধনাত্মক কয়েলিংও বলা হয়। সকল চার ধরনের ডানমূখী।
(ii) বামমূখী : একটি দ্বি-সূত্রক বিশিষ্ট বামমূখী ডিএনএ। এক্ষেত্রে সুগার ও ফসফেট অণু সংযোগ তৈরি করার সময় একটি জিগ-জাগ ধরনের আকৃতি তৈরি করে, তাই এধরনের ডিএনএ কে বলা হয়। এক্ষেত্রে প্রতি ঘূর্ণনে ১২টি বেস জোড় থাকে।
গ. কোষে ডি এন এ অবস্থানের উপর ভিত্তি করে তিন ধরনের। যথা :
(I) ক্রোমোজোমাল DNA: ক্রোমোজোমে অবস্থান অথবা নিউক্লিয়ার DNA বলে করে। প্রকৃত কোষের ক্ষেত্রে এ ধরনের DNA-কে ক্রোমোজোমাল DNA অথবা নিউক্লিয়ার DNA বলে ।
(II) সাইটোপ্লাজমিক DNA : কিছু কিছু DNA কোষের সাইটোপ্লাজমে বিশেষ করে মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাষ্টে পাওয়া যায়। দেখতে পাওয়া যায় ।
(iii) Promiscuous DNA : কখন ও কখনও একই ধরনের বেস সিলায়েন্স বিশিষ্ট কিছু DNA অণু নিউক্লিয়ার মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্টে দেখতে পাওয়া যায়। এধরনের DNA অণুকে Promiscuous DNA বলে। এ ধরনের ডিএনএ গুলো এক তোষ অঙ্গাণু থেকে অন্য কোষ অঙ্গাণুতে স্থানান্তরিত হয়। যেমন- ভুট্রারে ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম দেখা গেছে যে এ ধরনের ডি এন এ অণুগুলো ক্লোরোপ্লাস্ট থেকে মাইটোকন্ড্রিয়ায় স্থানান্তরিত হয়।
ঘ. গঠনের উপর ভিত্তি করে DNA দুই ধরনের। যথা-
(i) রৈখিক বা লিনিয়ার এবং
(ii) গোলাকার।
(1) রৈখিক বা লিনিয়ার : এ ধরনের DNA অণুগুলো দুই মুক্ত প্রান্ত বিশিষ্ট সুতার ন্যায় গঠন বিদ্যমান। প্রকৃতকোষে এ ধরনের DNA অণু পাওয়া যায়।
(ii) গোলাকার DNA : এ ধরনের DNA অণু গুলো রিং বা গোলাকার আকৃতিয়। ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসে এ ধরনের DNA অণু পাওয়া যায়।
ঙ. সূত্রকের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে DNA দুই ধরনের। যথা-
(i) দ্বি-সূত্রক DNA এবং
(ii) এক সূত্রক বিশিষ্ট DNA
(i) দ্বি-সূত্রক DNA : এ ধরনের DNA গুলোতে সর্পিলাকারভাবে দুইটি সূত্রক সজ্জিত থাকে। অধিকাংশ জীৰ উদ্ভিদ, প্রাণী এবং
(II) এক সূত্রক বিশিষ্ট DNA : এ ধরনের DNA গুলোতে একটি সূত্রক থাকে। ব্যাকটেরিওফাজ ৬ × ১৭৪ এ DNA ব্যাকটেরিয়াতে DNA দ্বি-সূত্রক। বিশিষ্ট DNA।
DNA 'র জৈবিক গুরুত্ব লিখ
DNA হলো বংশগতির ধারক ও বাহক। নিম্নে DNA-এর জৈবনিক গুরুত্ব বা কাজ লিখা হলো :
১. ক্রোমোজোমের গাঠনিক উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখে।
২. বংশগতির আণবিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৩. জীবের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশপরম্পরায় পরবর্তী প্রজন্যে স্থানান্তর করে।
৫. জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়।
৬. জীবের সকল শারীরতাত্ত্বিক ও জৈবিক কাজকর্মের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
৭. RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে।
৮. জীবের মিউটেশন (Mutation) সৃষ্টির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৯. প্রজাতি শনাক্তকরণে ভূমিকা পালন করে।
DNA-কে কৌলিক পদার্থ বলা হয় কেন?
ব্যাখ্যা কর। উত্তর Griffith ১৯২৮ সালে ব্যাকটেরিয়ায় ট্রান্সফরমেশন পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন। Giffith তাঁর পরীক্ষার জন্য ১. ইঁদুর 2. Diplococcus pneumoniae নামক ব্যাকটেরিয়ার দুই ধরনের জাত ব্যবহার করেন। D. pneumoniae-র একটি জাত ছিল যা শরীরে প্রবেশ করলে নিউমোনিয়া রোগ হয় এবং জীব মারা যায়। এর চারিদিকে পলিস্যাকারাইডের আবরণ থাকে এবং এরা রোগ সৃষ্টি করতে পারে অর্থাৎ এরা ক্ষতিকারক (virulent) এবং অপর জাতটি ছিল R-II যা শরীরে প্রবেশ করলে জীব মারা যায় । (non-virulent) এদের চারদিকে কোনো আবরণ থাকে না এবং এরা রোগ সৃষ্টি করতে পারে না অর্থাৎ এরা ক্ষতিকারক নয় Griffith তার পরীক্ষাটিকে ৪টি ধাপে সম্পন্ন করেন
১ম ধাপ : Griffith প্রথমে non-virulent R-II ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইঁদুরকে সংক্রামিত করলেন। যেহেতু ব্যাকটেরিয়াটি ক্ষতিকারক নয় তাই ইঁদুরটি মারা যায় না।
২য় ধাপ: এরপর virulent (S-III) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইঁদুরকে সংক্রামণ করলেন যেহেতু (S-III) ক্ষতিকারক তাই ইঁদুর মারা যায়।
৩য় ধাপ : এক্ষেত্রে তিনি virulent S-III ব্যাকটেরিয়া জাতগুলোকে তাপ বা উত্তাপ দ্বারা মেরে ফেললেন এবং মৃত জীবাণু ইঁদুরের দেহে সংক্রমণ করালেন। তিনি এক্ষেত্রে কোনো মৃত ইঁদুর পেলেন না।
৪র্থ ধাপ : এ পরীক্ষায় তিনি তাপ দ্বারা মৃত ক্ষতিকারক (S-III) ব্যাকটেরিয়ার সাথে জীবন্ত Non Virulent (R-II) ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত করে ইঁদুরের দেহে প্রবেশ করান। এক্ষেত্রে তিনি ধারণা করেন যে, ইঁদুর মারা যাবে না কিন্তু ইঁদুরগুলো মারা গিয়েছিল যা তার পরীক্ষার বিশ্বাস অনুরূপ হয় নাই। অতঃপর তিনি এই মৃত ইঁদুরটি পর্যবেক্ষণ করেন ।
0 Comments