গঠন ও উদ্দেশ্য
৪ এপ্রিল ১৯৪৯ ইউরোপের ১০টি দেশ (বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্য) এবং উত্তর আমেরিকার ২টি দেশ (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) মিলে গঠিত হয় ন্যাটো। মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসন ও পশ্চিম ইউরোপের দেশসমূহের স্বাধীনতার অখণ্ডতা বজায় রাখাই ছিল এ জোট গঠনের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন ইউরোপের আটটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নিয়ে ১৪ মে ১৯৫৫ গঠিত হয় আরেকটি সামরিক জোট Warshaw Treaty Organization | ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর সোভিয়েত বলয়ভুক্ত সামরিক জোটটি ১ জুলাই ১৯৯১ ভেঙে যায়। কিন্তু এর বিপরীত ন্যাটো জোট অক্ষুণ্ণই শুধু থাকেনি, আরও সম্প্রসারিত এবং শক্তিশালী হয়েছে। পোল্যান্ডের ওয়ারশ-এ বসে বর্তমান রাশিয়ার নেতৃত্বে যে সামরিক জোট ওয়ারশ প্যাক্ট করা হয় সেই পোল্যান্ডই এখন ন্যাটোর সদস্য। রাশিয়া ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলে, নেওয়া হয়নি। অথচ পূর্বের সোভিয়েত বলয়ের এবং ওয়ারশ'তে ছিল এমন অনেক দেশকে ন্যাটোর সদস্য করা হয় । মূলত এখান থেকেই ন্যাটোর সাথে রাশিয়ার বিরোধিতা শুরু। ১২টি সদস্য দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ন্যাটোর বর্তমান সদস্য দেশ ৩০টি ২৭ মার্চ ২০২০ উত্তর মেসিডোনিয়া NATO'র ৩০তম সদস্যপদ লাভ করে।
NATO সদস্য হওয়ার শর্ত
ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার প্রত্রিয়া পূর্বনির্ধারিত নয়, পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। বর্তমানে। | যেকোনো ইউরোপীয় দেশের জন্য সদস্যপদ গ্রহণ উন্মুক্ত রয়েছে যদি সে দেশগুলো নিরাপত্তা ও সহযোগিতার। ক্ষেত্রে ন্যাটো নীতিমালার সাথে সম্মত থাকে। তবে প্রথম ধাপ হচ্ছে একটি রাষ্ট্রকে অবশ্যই ন্যাটোতে যোগ। | দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতে হবে। তারপর ন্যাটো এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করবে। এরপর জোটের ১৯৯৫ সালের 'স্টাডি অন এনলার্জমেন্টের' নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। এ প্রক্রিয়াটির মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক। রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বাজার অর্থনীতি, সংখ্যালঘুদের সমান সুযোগ-সুবিধা, শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাত মোকাবিলা | এবং ন্যাটোর সামরিক কার্যক্রমে অবদান রাখার সক্ষমতা ও ইচ্ছা। ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি দেশ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পূরণ করেছে কি না তা আলোচনার শুরুতে মূল্যায়ন করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশগুলোকে প্রাথমিকভাবে মেম্বারশিপ অ্যাকশন প্ল্যানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। এটি একটি প্রস্তুতিমুলক প্রোগ্রাম যেখানে একটি রাষ্ট্রকে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয় । যাতে সদস্য পদ পাওয়ার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর চাহিদা পূরন করতে পারে । তবে, ন্যাটোতে নতুন কোনো দেশ যোগদানের জন্য এর সদস্যভুক্ত সকল দেশের সমর্থন এবং তাদের পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় ।
0 Comments